
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দীর্ঘদিনের অপরাধীদের আস্তানা ও ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে যাচ্ছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
আগামী রোববার (৩১ মে) চট্টগ্রামের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে তাদের এই কৌশলগত এলাকাটি পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের অধিকাংশ কর্মকর্তার ছুটি বাতিল ও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই হাই-প্রোফাইল সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সশরীরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটি পরিদর্শন করবেন এবং সেখানকার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। তবে পুলিশ জানায়, সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে যে সশস্ত্র হামলা হয়েছে, তার আগেই মন্ত্রীর এই সফরটি নির্ধারিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২৪ ২৪ মে) দিবাগত রাতে জঙ্গল সলিমপুরে নবস্থাপিত একটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে আকস্মিক সশস্ত্র আক্রমণ চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। তবে পিছু হঠার আগে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া পুলিশের পাল্টা ধাওয়া ও সাঁড়াশি অভিযান ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকার একটি প্রধান সংযোগ সড়ক কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
পাহাড়ি এই অঞ্চলটিতে অপরাধীদের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে এক বিশেষ অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় চট্টগ্রাম র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন।
এই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি বিশাল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্যের এই যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান শেষে অপরাধীদের পুনর্বাসন ও পালিয়ে যাওয়া রুখতে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ সিল করে দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থায়ী করতে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় পুলিশ এবং র্যাবের দুটি যৌথ স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল, যার একটিতেই গত রোববার রাতে নতুন করে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ক্যাম্প ভাঙচুর ও রাস্তা কাটার এই ঘটনা মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আগামী রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির এই সফর জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধ দমনে নতুন কোনো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।