
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসনের ভোট’ আখ্যা দিয়ে ভোট না দেওয়ার পেছনে তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে প্রকাশ্যে গণনা করা হয় এবং ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। এতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে হারিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
ভোট না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে জানান, তার প্রথম কারণ হলো নির্বাচনে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকা। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ‘এত বড় একটি গণঅভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।’
নিজের কাছে তৃতীয় কারণটিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুমিন ফারহানাসহ মোট ছয় সংসদ সদস্য ভোট দেননি। অন্যরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।