
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করেছে। তবে বিমানটির মস্কোয় আসার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানটির রাশিয়ায় অবতরণের তথ্য নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়িং সি-১৭ গ্লোবমাস্টার মডেলের ওই বিমানটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত টেইল নম্বর ছিল।
বিমানটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টার দিকে যাত্রা শুরু করে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে কী উদ্দেশ্যে বিমানটি মস্কোয় গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই।
ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছের ক্যাম্প স্প্রিংস বিমানঘাঁটি থেকে লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে মেরিল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহিনীর যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুস থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারি আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই ঘাঁটি ব্যবহার করেন।
এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে রাশিয়ায় পৌঁছেছিলেন। এরপরই সর্বশেষ কোনো মার্কিন নিবন্ধিত ফ্লাইট সরাসরি ইউরোপ থেকে রাশিয়ায় গিয়েছিল।
তৈরি হচ্ছে যেসব গুঞ্জন
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বহরে থাকা সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানটি দীর্ঘ দূরত্বে সেনাসদস্য ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি। ফলে বিমানটির আকস্মিক মস্কো আগমনকে ঘিরে নানা ধরনের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি সম্ভাব্য কোনো কূটনৈতিক সফর কিংবা বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে মস্কোয় গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে সাবেক মার্কিন মেরিন কর্মকর্তা রবার্ট গিলম্যানের উচ্চপর্যায়ের মুক্তি এবং বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত অন্যান্য বন্দি বিনিময়ের পর এ ধরনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি থমকে থাকলেও দুই দেশের মধ্যে কোনো গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগের চ্যানেল বা আলোচনা চালু থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: রয়টার্স