
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৩ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের বিবরণ ও ধারা
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Procedure Code), ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মোতাবেক এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্লবী থানার মামলা নং- ৩৫ (তারিখ: ২০/০৫/২০২৬ খ্রি.), যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(২)/৩০ তৎসহ দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ২০১ ধারায় রুজু রয়েছে; উক্ত মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
দ্রুত বিচারের স্বার্থে বিশেষ পদক্ষেপ
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত কোনো স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য সরকার বিশেষ আইনজীবী বা স্পেশাল পিপি নিয়োগ দিয়ে থাকে। আজই এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামির এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এরপর সিআইডি কর্তৃক সব ফরেনসিক রিপোর্ট হস্তান্তর এবং আজই আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের এই প্রজ্ঞাপন জারি—সব মিলিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়ে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আগামীকালই (২৪ মে) আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করতে পারেন বলে জানা গেছে।