
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাড়ে ৮৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
জ্যাকবের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "আজ আদালতে আমরা আসামির পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। তবে আদালত আবেদনটি গ্রহণ না করে আগামী ১৬ জুন জামিন শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।"
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে ও অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে মোট ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯ হাজার ৯২৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া তদন্তে দেখা গেছে, তার নিয়ন্ত্রণাধীন ১৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সন্দেহজনকভাবে মোট ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত এই বিপুল অর্থের অবৈধ উৎস আড়াল করতে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব এস. এম রাশেদুর রেজা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ ঢাকা ও ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
মামলায় আসামির বিরুদ্ধে:
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা,
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং
১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক এই উপমন্ত্রী জ্যাকব সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আগে থেকেই কারাগারে বন্দি রয়েছেন।