
পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে মাথা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চলা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়ে শামিল হলেন ঢাকার আইনজীবীরাও। আদালতের কাঠগড়ায় নৃশংস এই অপরাধের মূল হোতা ও তার সহযোগীদের আইনি ডিফেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান আইনজীবীদের এই সম্মিলিত ও দৃঢ় সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
“কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী আসামির পক্ষে লড়বেন না”
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত তুলে ধরে স্পষ্ট করে লেখেন, ‘ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বারের কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী রামিসা হত্যা মামলার আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন না।’
আইনজীবীদের এমন কঠোর ও সংহতিমূলক অবস্থানের ফলে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য ঢাকা বারের কোনো সদস্য আদালতে দাঁড়াবেন না।
পল্লবীর সেই রক্তহিম করা হত্যাকাণ্ড ও তদন্তের অগ্রগতি
গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাপ্লুত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ওই ফ্ল্যাটেরই বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার পরপরই পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ প্রথমে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিখুঁত অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে পাশবিক নির্যাতন এবং পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের জন্য গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে শিশু রামিসা নিজের বাসা থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা সোহেল রানা কৌশলে তাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নৃশংসতা শেষে লাশটি ঘরের ভেতর গুম করার সব ধরনের চেষ্টাও চালিয়েছিল সে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা টের পেয়ে ফ্ল্যাটের ভেতর সোহেল রানার স্ত্রীকে আটকে ফেললেও, চতুর ঘাতক সোহেল রানা ঘরের জানালার লোহার গ্রিল কেটে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।