
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে ব্যাংকের পরিচালকদের একাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পরিচালকদের মধ্যে ‘সুপার মেজরিটি’র মনোনয়ন ও সুপারিশ পাওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালকদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলায় ডিবি দিয়ে তুলে নেওয়া, এমনকি গুলিবর্ষণ ও মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন ডিরেক্টরদের একাংশের পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পূর্বনির্ধারিত বোর্ড মিটিংয়ের ঠিক আগের দিন, বুধবার (২১ জানুয়ারি) আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে, ঢাকায় পরিচালক অশোক কুমার সাহার বাসায় দুইটি মোটরসাইকেল যোগে আগত একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা সিসি টিভি মনিটর ভাঙচুর করে এবং হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দেয়। একটি খামে চিরকুট রেখে যায় যাতে লেখা ছিলো,
‘মি. অশোক, ২৫ তারিখ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সভায় তুমি যাচ্ছো না। যদি যাও, তাহলে তোমার ফেরার রাস্তা বন্ধ। আর যদি ফিরে আসো, তাহলে তুমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে সারা জীবন। কথার বাইরে গেলে তোমার শ্রাদ্ধ খেতে আসবো আমরা। পুঁজিবাদের দোসর হয়ে আমাদের হত্যা করতে বাধ্য করো না। পরিবার সবারই আছে’

সেই সময় অশোক কুমার সাহা বাসায় ছিলেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা থানার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোঃ মাসুদ আলম।
এ ব্যাপারে গতকাল ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অশোক সাহার পক্ষ থেকে তাঁর শ্যালক নন্দন কুমার সাহা। জিডিতে তিনি জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী, তিনি তার দুলাভাই অশোক কুমার সাহার ফ্ল্যাটে ধনমন্ডি-০৯/এ বসবাসরত আছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল ০৪.৫৫ ঘটিকার সময় অজ্ঞাত ৪ সন্ত্রাসী দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে তার বাসার সামনে এসে বাসার দারোয়ানকে পিস্তল ঠেকিয়ে একটি খাম অশোক কুমার সাহার কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। সন্ত্রাসীরা একটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে, ইন্টারকম ভেঙ্গে, সিসি টিভি মনিটর ও হার্ড ডিস্ক ভেঙ্গে নিয়ে যায়। খামে থাকা চিরকুটে অশোক কুমারকে ২৫ তারিখ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সভায় না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। উক্ত ঘটনার পর থেকে অশোক কুমার সাহা ও তার পরিবারের পাশাপাশি তার নিজের পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই তিনি ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়রীভুক্ত করার আবেদন করেছেন।

এ ঘটনায় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, পরিচালকদের একাংশ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমানের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে, জুলাই আন্দোলনের মিথ্যা মামলায় আরেক পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদুল হককে ডিবি দিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। ভুক্তভোগীর ছেলের সাথে কথা বললে তিনি বোর্ড মিটিংয়ের আগমুহূর্তে তার বাবার এই ডিবি দিয়ে তুলে নেওয়া ও মামলায় আটক দেখানোর জন্য ব্যাংকের এমডি হাবিবুর রহমানকে সরাসরি দায়ী করেন।
এদিকে, আরেক স্বতন্ত্র পরিচালক বর্ষীয়ান ব্যাংকার গোলাম হাফিজ আহমেদকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ এবং বোর্ড মিটিংয়ে না আসার জন্য সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে চিঠি দিয়েছে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ। নানাবিধ ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি তাকে কোন এজেন্ডা বা বোর্ড মিটিংয়ের নোটিশও পাঠানো হয়নি যাতে তিনি মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং হাবিবুরের বিপক্ষে অবস্থান না নিতে পারেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর মোঃ কবির আহমেদকে অভিযোগ দিলে তিনি জানান, ‘চেয়ারম্যানের কোন এখতিয়ারই নেই এমন চিঠি দেওয়ার এবং বিষয়টি তিনি তাতক্ষণিক খতিয়ে দেখার কথা বলেন।’
উল্লেখ্য, বিভিন্ন ব্যাংকিং অনিয়ম, দূর্ণীতিতে সংশ্লিষ্টতা এবং যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) ডিভিশন-২-এর পরিচালক মোঃ আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ব্যাখ্যা তলব করা হয় এবং জবাবের জন্য ৭ (সাত) কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়। একের পর এক অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এমনকি এমডি হয়েও দুদকের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী (বর্তমানে জামিনে) হাবিবুর রহমানের কাছে পত্র সূত্র নং-বিআরপিডি (বিএমএমএ)/৬১৫/২৮/২০২৫-১৬৭১৪ এর বরাতে অনিয়মের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা।
হাবিবুর রহমানের বিতর্কিত পুনর্নিয়োগে স্বচ্ছতার প্রশ্ন:
বিভিন্ন ব্যাংকিং অনিয়ম, দূর্ণীতিতে সংশ্লিষ্টতা এবং যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সুযোগসন্ধানী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই হাবিবুরকে নিয়ে এই প্রতিবেদকসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে একাধিকবার BRPD Circular-৫-এর চরম লঙ্ঘন করেছে।
উল্লেখ্য, হাবিবুরের বিভিন্ন অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে দ্বিতীয় দফায়, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত ১১ জন পরিচালকের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মোঃ হাবিবুর রহমানকে ৯০ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছয়জন পরিচালকের স্বাক্ষরিত বোর্ডের কার্যনির্বাহী বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে সশরীরে বিআরপিডিতে জমা দিয়ে গভর্নরকে মৌখিকভাবেও অবহিত করা হয়। অথচ ব্যাংকের উক্ত বোর্ড মিটিংয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালক হাবিবুরকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর পরও, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং-এর BRPD পরিচালক মোঃ আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য হাবিবুর রহমানকে সাময়িক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়, যা প্রকারান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এদিকে, এমডি পদে ৩ বছরের চুক্তির মেয়াদ এ মাসেই শেষ হওয়ায় পুনর্নিয়োগের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এই বিতর্কিত এমডি। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগে বোর্ডের যে কোনো পদক্ষেপকে স্থগিতাদেশ দেয়।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালকদের একাংশ ও শেয়ারহোল্ডারদের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক আদেশে হাইকোর্ট ব্যাংকের বোর্ডকে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে জানতে চেয়েছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব এবং ব্যাংকের বোর্ড সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব কেন আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই জারি করা হয়েছে, তা ঘোষণা করা হবে না।
মহামান্য হাইকোর্ট এক আদেশের মাধ্যমে ব্যাংক এবং বোর্ডকে অনুরোধ করেছেন যে, বিষয়টি এখন বিচারাধীন থাকায় এজেন্ডায় কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করতে। উল্লেখ্য, বিগত ৭ জানুয়ারীর পূর্বনির্ধারিত বোর্ডের ১৫ নম্বর এজেন্ডায় হাবিবুরের রিনিউয়ালের বিষয়টি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ছিল। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানের রিনিউয়াল নিয়ে তীব্র বিভক্তির মধ্যেই আদালতের এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যেখানে বোর্ডের একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, অন্যটি পরিচালনা করছেন তারই ছেলে এবং ভাইস-চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুল আলীম।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংককে হাবিবুরের বাধ্যতামূলক ছুটি পাঠানোর জন্য কয়েক দফা চিঠি লিখেও কোনো প্রতিকার পায়নি ডিরেক্টরদের একাংশ। উপরন্তু, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবেদনটি গ্রাহ্য না করে রহমানকে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছে বোর্ড বরাবর পাঠানো চিঠিতে।
এদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সমর্থন করার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে যে, ৭ জানুয়ারির বোর্ড মিটিংয়ে ১৫ নম্বর কার্যবিধি নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই বোর্ড মিটিংয়ের সমাপ্তির পরে আলীম গ্রুপ ব্যাংকের বোর্ড কক্ষ ত্যাগের পর পুনরায় আজিজ গ্রুপ ব্যাংকে প্রবেশ করে হাবিবুরের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য তার রিনিউয়ালের বিষয়টি হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে কার্যবিবরণীতে সংযুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকে NOC-এর জন্য প্রেরণ করে।
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জশিটভুক্ত ও অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির এমন পুনঃনিয়োগ বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরেও হাবিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হঠকারী ও বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্তের ফায়দা লুটতে মরিয়া ও আগ্রাসী আচরণ হাবিবুর রহমানের:
যখন একদিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাখ্যা তলব করেছে হাবিবুরকে, এবং অন্যদিকে হাবিবুরের সাথে যোগসাজশে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে তার পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে বোর্ডের একাংশ, তখন গত ১৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্ণর সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়ের এক পর্যায়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিয়ে এক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে আহসান এইচ মনসুর জানান, ‘বোর্ডের সবার ঐক্যমত না হলে এই এমডিকে আমরা রিঅ্যাপয়েন্টমেন্ট করবো না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পরিচালকদের হয় অ্যাবসোলুট কনসেন্সাস বা সুপার মেজরিটি থাকলেই আমরা তার কথা বিবেচনা করবো।’ তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেন, ‘১০ জন পরিচালকের মধ্যে অন্ততপক্ষে ৯ জনকে এই বিষয়ে ঐক্যমত হতে হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত ১৫ জানুয়ারিই চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক বোর্ডকে। কিন্তু ব্যাংকিং ইতিহাসের এই নতুন তত্ত্ব ‘সুপার মেজরিটি’ পেতেই মরিয়া ও আগ্রাসী আচরণ করছে এই মাফিয়া ব্যাংকার, আর তাকে সহায়তার অভিযোগ খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু উর্ধতন কর্মকর্তার দিকে।
গত ৩০ অক্টোবর বোর্ডে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালকের (উপস্থিত ১১ জনের মধ্যে ৬ জন) সিদ্ধান্তে হাবিবুরকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং হাইকোর্টের বিধিনিষেধ অমান্য করে ৭ ই জানুয়ারীর বোর্ডের প্রতিপক্ষ পরিচালকদের অনুপস্থিতিতে মাত্র ৭ (সাত) পরিচালকের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রিনিউয়ালের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, সেখানে ২২ জানুয়ারি বোর্ড মিটিংয়ের আগে তার পক্ষে অবস্থানকারী পরিচালকের সংখ্যা মোট ৮ (আট)। অভিযোগ উঠেছে যে, নিজস্ব প্রভাব, ভয়ভীতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু অসাধু উর্ধতন কর্মকর্তার সহায়তায় সুকৌশলে আপন জুয়েলার্সের পাঁচ মনের বেশি স্বর্ণ চোরাচালান মামলার আসামী গুলজার আহমেদ (বর্তমানে জামিনে) এবং ঋণ খেলাপী মঞ্জুর আলমের ঋণ শেষ মুহূর্তে এসে পুনঃতফসিল করে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দু'জনের NOC এনে পরিচালনা পর্ষদে তড়িঘড়ি করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তেমনি তার পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী পরিচালকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও ডিরেক্টরশীপ কেড়ে নেওয়ার পায়তারা করছে।
বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির সংশ্লিষ্টতায় হাবিবুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা তলব সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ বারংবার খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকই তাদের নিজেদের করা BRPD Circular-৫-এর ধারা ২(ক) ৮-কে বরখেলাপ করছে এবং উক্ত সার্কুলারের অধিকাংশ ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে হাবিবুর রহমানকে এমডি পদে পুনর্নিয়োগ করার বন্দোবস্ত করছে।