
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই আসনের বাকি আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান। এদিন সকাল ১০টা থেকে রংপুর-১ আসনের এবং বিকেলে রংপুর-২ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, যাচাই-বাছাইয়ে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী তিনি আপিল করার সুযোগ পাবেন।
যাচাই-বাছাই শেষে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি করপোরেশনের আংশিক) আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু, গণ অধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান সজিব, বাসদ (মার্কসবাদী) আহসানুল আরেফিন তিতু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মমিনুর রহমান এবং ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আনাস।
এদিকে বিকেলে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই আসনে বৈধ পাঁচ প্রার্থী হলেন— বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. আশরাফ আলী এবং বাসদ (মার্কসবাদী) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর প্রার্থী আজিজুর রহমান।
মনোনয়ন বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী বলেন, ‘মনোনয়ন ফরমে একটি ছোট ভুলের কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করব এবং এ ব্যাপারে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ‘নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন না করায় ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল করে বৈধতা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।’
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধারাবাহিকভাবে রংপুর জেলার বাকি আসনগুলোর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইও সম্পন্ন করা হবে। সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) এবং বিকেলে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের যাচাই-বাছাই হবে। পরদিন শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) এবং বিকেলে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ঘিরে রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। প্রার্থীরা এখন চূড়ান্ত তালিকায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।