
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হওয়ার কথা বলেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না বলে দাবি করেছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান এখনো কোনো চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।’
তিনি জানান, চুক্তির খসড়ার অধিকাংশ অংশ নিয়ে কাজ শেষ হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করছে এবং নতুন নতুন অনুরোধ যোগ করছে। বাঘাই বলেন, পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার নথিপত্র প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানও এই চুক্তি চায়, যেমন অন্যরাও চায়।’ তিনি আরও জানান, আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তিনি নিজে উপস্থিত না থাকলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সেখানে থাকবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে কাতারের আমিরের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোনে কথা হয়েছে। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনায় সম্ভাব্য চুক্তির অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
কাতার জানিয়েছে, তারা এই সমঝোতা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: আল জাজিরা।