
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে দেশটি থেকে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে। সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ক্রয় তালিকায় বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে মোট লেনদেনের পরিমাণ আরও বাড়বে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষিপণ্যের জন্য বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দেবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও মোটরযান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) সরঞ্জাম, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, পোলট্রি, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের ফল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের শর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর প্রায় নয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার ফলেই এই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
চুক্তির আওতায় অশুল্ক বাধা কমাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ক্ষেত্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর সনদের স্বীকৃতি দেবে। একই সঙ্গে শুল্ক প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, পুনরায় উৎপাদিত (রি-ম্যানুফ্যাকচারড) পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সীমান্ত পারাপারের তথ্য আদান–প্রদান সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শ্রম সুরক্ষা জোরদার, পরিবেশ আইন কার্যকর করা এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় কঠোর মানদণ্ড অনুসরণের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পনির ও মাংস উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সংক্রান্ত বিধান মেনে চলার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগে অর্থায়নের সম্ভাবনাও বিবেচনা করবে।