
আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিবর্তন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তাঁর দাবি, পূর্ব পাকিস্তান আন্দোলন ও অখণ্ড বাংলার ধারণার ব্যর্থতার প্রেক্ষাপট থেকেই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল, তবে সময়ের সঙ্গে দলটি তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ গঠনের পূর্ববর্তী প্রস্তুতি, আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র ছিল পুরান ঢাকার ১৫০ মোগলটুলীর একটি বাড়ি। দল প্রতিষ্ঠার পর এটিই ছিল বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রথম অস্থায়ী কার্যালয়।
পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান আন্দোলন তথা অখণ্ড বাংলার ব্যর্থতা থেকেই আওয়ামী (মুসলিম) লীগের জন্ম। ভাষা আন্দোলনের সূচনা। পূর্ব পাকিস্তান আন্দোলনের তাত্ত্বিকগণই বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি দাঁড় করিয়েছেন। যেমন, মোহাম্মদ আব্দুস সাদেক। যিনি স্বতন্ত্র পূর্ব পাকিস্তান/অখণ্ড বাংলা হলে কীভাবে এর অর্থনীতি দাঁড়াবে সেটার ব্যখ্যা দিয়েছিলেন ’৪৭ এর আগে। আর, ১৯৫৪ সালে সর্বপ্রথম লিখেছিলেন ‘দুই অর্থনীতি’ নিয়ে। যে ‘দুই অর্থনীতি’ তত্ত্ব হয়েছিল পরবর্তীতে ছয় দফার ভিত্তি।’
মাহফুজ আলম আরও লেখেন, ‘মোহাম্মদ আব্দুস সাদেক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের বাঙ্গালি মুসলমান অর্থনীতি গ্রাজুয়েট। পরে ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষক হয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান যখন ইসলামিয়া কলেজে পড়ছেন, তখনও আব্দুস সাদেক সেখানে শিক্ষক ছিলেন।’
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার আগে আওয়ামী লীগ অখণ্ড ভারত ও অখণ্ড পাকিস্তান—উভয় ধারণারই প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭১ পূর্ব আওয়ামী লীগ অখণ্ড ভারত ও অখণ্ড পাকিস্তান উভয়েরই নেমেসিস ছিল’। তবে তাঁর মতে, ‘মুজিববাদ’ ও ‘বাকশাল’ দলটিকে ভারতের প্রভাববলয়ে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালের ৭ জুন বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
পোস্টে মাহফুজ আলম আরও বলেন, ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীর দিনই ‘বাংলাদেশ’ নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘কিন্তু, ১৫০, মোগলটুলীর সে আওয়ামী লীগ বিক্রি হয়ে গেছে।’
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘লীগের ইতিহাস পলাশীর গ্লানির দিনে বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য দল প্রতিষ্ঠা থেকে নিচে নামতে নামতে ভারতের নির্লজ্জ দালালে পরিণত হয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য জলাঞ্জলি দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা, লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। এজন্যই বাঙালি যাদের একদা ত্রাতা ভেবেছিল, তারা আজ তাদের পুরাতন শত্রু ‘অখণ্ড ভারতপন্থীদের’ দয়ায় টিকে আছে। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান ও উৎখাত করেছে।’