
ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে লণ্ডভণ্ড করে এক দাপুটে জয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। ‘এল’ গ্রুপের রোমাঞ্চকর প্রথম ম্যাচে ক্রোয়াটদের ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের দুই-দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরে লড়াই জমিয়ে তুলেছিল ক্রোয়েশিয়া, তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ইংলিশদের মুহুর্মুহু ও ধারালো আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের রক্ষণভাগ। ফলে দুর্দান্ত এক জয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করল ইংল্যান্ড।
গত বুধবার (১৭ জুন) অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জোড়া গোল করে সব আলো নিজের কেড়ে নিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। একই সাথে ফুটবল ইতিহাসের একাধিক মহিমান্বিত রেকর্ডেও নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে একটি রাজকীয় রেকর্ডে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকেও, আর অন্য একটি অনন্য কীর্তিতে বসেছেন নিজ দেশ ইংল্যান্ডের চূড়ায়। ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
খেলার শুরুতেই পেনাল্টি পেয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ আসে ইংলিশদের সামনে। ম্যাচের ১১ মিনিটে হ্যারি কেইনের নেওয়া প্রথম পেনাল্টি শটটি দুর্দান্তভাবে রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। তবে শট নেওয়ার আগেই ক্রোয়াট গোলরক্ষক নিয়ম ভেঙে গোললাইন ছেড়ে সামনে বেরিয়ে আসায় রেফারি পুনরায় শট নেওয়ার নির্দেশ দেন। ১২ মিনিটে দ্বিতীয় সুযোগে আর কোনো ভুল করেননি ইংল্যান্ডের দলনেতা; নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে (টাইব্রেকার ব্যতিরেকে) এটি ছিল কেইনের পঞ্চম পেনাল্টি গোল। ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে পেনাল্টি স্পট থেকে এত বেশি গোল করার কীর্তি নেই আর কোনো ফুটবলারের। এই ম্যাজিকাল রেকর্ড গড়ার পথে হ্যারি কেইন পেছনে ফেলেছেন বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে যৌথভাবে ৪টি করে গোল করা লিওনেল মেসি, ইউসেবিও, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও রব রেনসেনব্রিঙ্ককে।
এর পাশাপাশি কেইনের এই শটটি জাল স্পর্শ করতেই আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। সাবেক তারকা ডেভিড ব্যাকহামের (১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপ) পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল নজির স্থাপন করলেন হ্যারি কেইন (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬)।