
জুলাইযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল থেকে যাতে ঝরে না পড়ে সে জন্য সরকার শিক্ষা ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
এসময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘‘জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে স্কুল থেকে ঝড়ে না পড়ে সেজন্য আমরা শিক্ষা ভাতা দিয়ে স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করব।’’
‘‘এছাড়া আমাদের সরকার জুলাইতে যারা আহত বা শহীদ হয়েছেন, সেই পরিবারগুলোর কল্যাণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব,’’ বলেন তিনি।
জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বিগ্ন মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জানতে চেয়েছেন এখন পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও আমরা এসে যাচাই-বাছাই করেছি প্রকৃত আহত কারা। তাদের গেজেট করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাদেরকে ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘জুলাইযোদ্ধাদের ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ - এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। আর যারা জীবিত আছে তাদের মধ্যে ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ - এই তিনটি শ্রেণিতে মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ‘ক’ শ্রেণি পায় ২০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণি পায় ১৫ হাজার টাকা, ‘গ’ শ্রেণি পায় ১০ হাজার টাকা।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘এভাবে জুলাইতে যারা এই সংগ্রামে আহত বা শহীদ হয়েছে, তাদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ অধিদপ্তর করা হয়েছে।’’
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে আমরা সিস্টেমেটিক্যালি জুলাইতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের জন্য কয়েকটি স্কিম নিয়েছি। আমরা দেখেছি, জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে যাদের ছেলে-মেয়েরা বা শহীদ পরিবারের ছেলে-মেয়েরা লুকড আফটার (দেখভাল করা) হয় না, তাদের অনেকেই স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে। তাদেরকে আমরা আবার শিক্ষা ভাতা দিয়ে স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করব।’’
তিনি বলেন, ‘‘যারা ছোট ছোট ব্যবসা করতেন এবং হাত-পা চলে গেছে বা যথেষ্ট কর্মক্ষম নন, তারা যাতে কিছু খেয়ে-দেয়ে জীবন কিছুটা সুখময় করতে পারেন কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারেন, সেজন্য তাদের জন্য ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা যায় কি না; এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করছি।’’
‘‘তাদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করব,’’ বলেন তিনি।
জুলাই আহতদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘যার বাবা মারা গেছে, সে ছেলে যেন একেবারেই স্কুল থেকে ঝড়ে গিয়ে অশিক্ষিত না হয়; তার শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর পুনর্বাসনের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘কারও হাত বা পা নেই কিন্তু মোটামুটি কর্মক্ষম; তাদের কী ধরনের প্রজেক্ট দিলে মোটামুটি সচ্ছলভাবে সংসার পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য তিনি (প্রধানমন্ত্রী) পরামর্শ দিয়েছেন।’’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল এক লাখ। তা এখন হয়ে গেছে আড়াই লাখ। বিরাট সংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। এমনকি বিগত সরকারের সময় ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাতিল করা হয়েছে।’’
বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, যা দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত, তারা এই তালিকা যাচাই-বাছাই করছে। এরইমধ্যে ৩০০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। আমরা আশা করি, মুক্তিযুদ্ধের সব বেনিফিট যাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা পান, সে ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করব। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ধীরে ধীরে, পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া হবে, যোগ করেন তিনি।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় যারা ছিলেন, তাদের অনেকেই বিভিন্নভাবে সুবিধা পেয়েছেন। সেই সুবিধা বাতিলের কোনো সুযোগ থাকবে কিনা, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করব, যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়ে অন্যায়ভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সেগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার।’’