
মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে 'নরক' নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ বিষয়ক শাখার প্রধান। ইতিমধ্যেই কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা এক ডজনেরও বেশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
বুধবার রাতভর এবং বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বিনিময়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনাকর রূপ নিয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে "অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের" অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ইরানের ওপর এই হামলা শুরু করে। মার্কিন বিমান হামলার পরপরই রাজধানী তেহরানের আশপাশের এলাকা, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক, পশ্চিমাঞ্চলের কারাজ এবং কাজভিন প্রদেশের আবিয়েকসহ ইরানের বিভিন্ন শহরের আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এর জবাবে ইরানও পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও হামলা থেকে বাঁচতে বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে দফায় দফায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সাম্প্রতিক প্রধান প্রধান ঘটনাপ্রবাহ নিচে তুলে ধরা হলো:
ট্রাম্পের নতুন চুক্তি ও হামলার হুঁশিয়ারি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানের ওপর মার্কিন বোমাবর্ষণ চলতেই থাকবে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, "আমরা তাদের ওপর হামলা চালাব এবং খুব কঠোরভাবে চালাব।"
হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ: ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর' ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজকে তারা সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানাবে। সামরিক কমান্ডটি আরও জানিয়েছে, ইরানের ওপর আমেরিকার নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকে এই কৌশলগত জলপথটি এখন "সব ধরনের নৌযানের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ" করে দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগের দাবি প্রত্যাখ্যান তেহরানের: ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন বলে ওয়াশিংটন যে দাবি করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, "ইরানি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে ট্রাম্পের এই মিথ্যা দাবিটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়ানোর একটি অজুহাত মাত্র।"
'নরক' নামানোর কড়া হুঁশিয়ারি: আমেরিকার সর্বশেষ দফা বিমান হামলার পর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের (মহাকাশ বাহিনী) প্রধান। তিনি এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের জন্য ‘নরক’ নামিয়ে আনার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ, এই অঞ্চলে আমেরিকানদের ঔদ্ধত্যের এটাই জবাব।”
কুয়েতে বিমান চলাচল শুরু: এদিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুনরায় বিমান ওঠানামা শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: মিডিল ইস্ট আই