
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও তেহরানের বাড়তে থাকা টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলজুড়ে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।
উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড এর দায়িত্বাধীন এলাকায় ৩০০টিরও বেশি মার্কিন বিমান অবস্থান করছে। বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এ থাকা ক্যারিয়ার এয়ার উইংয়েও বিপুলসংখ্যক বিমান প্রস্তুত রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে এই বিশাল বিমানবহর গড়ে তুলতে প্রায় ২৭০টি সি ১৭ ও সি ৫ সামরিক পরিবহন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পাশাপাশি প্রায় ৭৫টি কেসি ৪৬ ও কেসি ১৩৫ কৌশলগত ট্যাংকার বিমান বর্তমানে সেন্টকমের অধীনে রয়েছে অথবা সেখানে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
মোতায়েনকৃত বহরের প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ এফ এফ, ৩৬টি এফ ১৫ই, ৪৮টি এফ ১৬সি সিজে সিএম এবং ৪২টি এফ ৩৫এ সি। বাকি ৩০ শতাংশ বিশেষায়িত সহায়ক বিমান, যার মধ্যে আছে ১৮টি ইএ ১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান, ১২টি এ ১০সি থান্ডারবোল্ট ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট বিমান, ৫টি ই ১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশন নোড বিএসিএন এবং ৬টি ই ৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস।
তবে গত বছরের জুনে ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এ ব্যবহৃত বি ২ বোমারু বিমানের সাম্প্রতিক কোনো গতিবিধি এখনো শনাক্ত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক জোরদারের পাশাপাশি ইসরায়েলও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সম্ভাব্য অভিযানে অংশ নিতে পারে। ইসরায়েলের হাতে বর্তমানে ৬৬টি এফ ১৫আই সি ডি, ১৭৩টি এফ ১৬আই সি ডি এবং ৪৮টি আধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এসব যুক্ত হলে সম্মিলিত আকাশশক্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার ইসরায়েল আরও ১২টি মার্কিন এফ ২২ র্যাপ্টর স্টেলথ যুদ্ধবিমান পেয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, এসব বিমান শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় ঢুকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসে সক্ষম। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাংলি এয়ার ফোর্স বেস থেকে আরও ৬টি এফ ২২ উড্ডয়ন করে, যা যুক্তরাজ্যের আরএএফ লেকেনহিথ হয়ে ইসরায়েলে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন, তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথও খোলা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম অপশন সবসময় কূটনীতি। তবে তিনি প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত।’
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরান একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
