
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন, যা অবিলম্বে মাদুরো দম্পতির মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছে।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্রুত সমাধান না হলে এই ইস্যু আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বেইজিং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে যেকোনও ধরনের শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে তারা নিউইয়র্ক শহরের একটি আটক কেন্দ্রে বন্দি রয়েছেন। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মাদুরো ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে। ভেনেজুয়েলার সরকারকে উৎখাতের যেকোনও প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং সমস্যার সমাধান করতে হবে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে।’
এর আগেও চীন এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে শক্তি প্রয়োগে বেইজিং ‘গভীরভাবে বিস্মিত’ বলে জানায় এবং একইসঙ্গে ঘটনার ‘তীব্র নিন্দা’ করে।
এদিকে মধ্যরাতে আকস্মিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পরদিন ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা। সাধারণ সময়ে জনসমাগমে মুখর থাকা বাজার, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
তবে কিছু এলাকায় ফার্মেসি ও সুপারশপ খোলা থাকতে দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে মানুষ সেখানে গেলেও তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা স্পষ্ট ছিল। কয়েকটি স্থানে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকদের বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে মার্কিন অভিযানে আটক হওয়ার পর শনিবার ভোরে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে কারাকাস থেকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের প্রথমে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন নৌ জাহাজে নেওয়া হয়, যার নাম ‘ইউএসএস আইডব্লিউও জিমা’।
পরবর্তীতে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর একটি উড়োজাহাজে করে তাদের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টির স্টুয়ার্ট বিমান ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আবার হেলিকপ্টারে করে মাদুরোকে নিউইয়র্ক শহরে আনা হয়।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর তাকে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি বা ডিইএর কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে ব্রুকলিনের একটি বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়। জানা গেছে, আটক হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রায় নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী মোট প্রায় ২১০০ মাইল বা ৩৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন।