
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক খুনের ঘটনায় নয়া দিল্লিকে জড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করার অভিযোগে এবার বড় ধরনের আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী রিংকি চট্টোপাধ্যায় সিং এই অভিযোগটি দায়ের করেন। এজাহারে অন্য সব বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত সরকারের হাত রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টার অভিযোগটিকে বিশেষভাবে আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আইনি ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)। তিনি প্রকাশ্যে এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সততা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।’
এর বাইরে গত ২ জুন একটি রাজনৈতিক জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মামলাকারী জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো এক গোপন আলোচনার দাবি তোলেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জড়িত বলে মন্তব্য করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, এ ধরনের ভিত্তিহীন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা বৈরী মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে।
এজাহারে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এর আগেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণার সময় মমতা একটি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় যদি হিন্দুদের ওপর হামলা চালায়, তবে ‘তাদের ১২টা বেজে যাবে’।
আইনজীবী রিংকির অভিযোগ, এ ধরনের মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা’ এবং ‘সামাজিক অশান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা।’
তবে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।