
রাজনীতির পিচে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার ইচ্ছা এখনো ফুরিয়ে যায়নি মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসন্ন নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে পিছিয়ে এলেও সাকিবের বিশ্বাস, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ তাকে আবারও জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবে।
৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গত ৫ আগস্টের পর থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
‘ভোটে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলাম'
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় ক্ষমতা হারায় সাকিবের দল। দেশের বাইরে থাকায় তিনি আর ফিরতে পারেননি। তবে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তার মনে এক ধরনের জেদ কাজ করেছিল।
সাকিব বলেন, “আমি তো এবারের নির্বাচন করতেও আগ্রহী ছিলাম। ভেবেছিলাম নির্বাচন করি, ভোটে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দেই। পরে ভাবলাম, আমাকে তো নির্বাচন করতে দেবেই না। এছাড়া দলেরও তো একটা সিদ্ধান্ত থাকে, সেটার বাইরে যাওয়া যায় না। নাহলে নির্বাচন করে দেখিয়ে দিতাম।”
মাগুরার মানুষের ওপর অগাধ আস্থা
নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাকিব দাবি করেন, মাগুরা নিয়ে তার দেখা স্বপ্নগুলো এখনো ম্লান হয়ে যায়নি। একটি সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ পেলে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “মাগুরার মানুষের জন্য সারাটা জীবন আছে আমার। মাগুরার মানুষ আমাকে আবার সুযোগ দেবেই। যতদিন সুযোগ না পাচ্ছি…. তারপরও যদি ভালো করতে পারি, হয়তো আরও সুযোগ দিবে। আমার ধারণা, একবার সুযোগ পেলে আমি যে কাজ করব, তাতে আর বারবার করা লাগবে না। আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে, ওখানে নির্বাচন করলেই আমি জিতব। মানুষ আমাকে ভোট দেবে, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।”
আওয়ামী লীগেই অবিচল আনুগত্য
রাজনীতিতে দলের বর্তমান কঠিন সময়েও আওয়ামী লীগের প্রতি নিজের প্রতিজ্ঞার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন সাকিব। তিনি বিশ্বাস করেন, দলের ওপর থাকা বর্তমান নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী নয় এবং সময় হলে আবারও দলীয় ব্যানারে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে থাকা এই কিংবদন্তি মনে করেন, একবার পূর্ণাঙ্গ সুযোগ পেলে তিনি মাগুরার জন্য এমন কাজ করবেন যা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সাকিবের এমন আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।