
ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয়রা। স্লিপ থাকা সত্ত্বেও চাল না দেওয়া, কম পরিমাণে চাল বিতরণ এবং চাল বিক্রির অভিযোগ এনে তারা মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ঢোলভাঙ্গা এলাকায় গাইবান্ধা–পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নেন স্থানীয়রা। এতে সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অবরোধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের কথা ছিল। তবে শনিবার বিতরণের সময় অনেক সুবিধাভোগীকে ১০ কেজির পরিবর্তে মাত্র ৬ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ সময় যাদের হাতে স্লিপ ছিল কিন্তু চাল পাননি, তাদের জানানো হয় রোববার চাল দেওয়া হবে। কিন্তু রোববার সকালে তারা চাল নিতে গেলে চেয়ারম্যান আজাদুল সরকারের পক্ষ থেকে টালবাহানার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকিও দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের চাল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের না দিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ স্লিপ থাকা সত্ত্বেও চাল দেওয়া হয়নি এবং চেয়ারম্যানের লোকজন তাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার। তিনি বলেন, "আমার ইউনিয়নে ৫ হাজার ২০০টি স্লিপের বরাদ্দ ছিল। কিন্তু হিসাব করে দেখি গতকালই ৫ হাজার ৯৭৪টি স্লিপের চাল বিতরণ হয়ে গেছে। এরপর আর চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। আজ যারা অবরোধ করছে তারা অনেকেই ভুয়া স্লিপ নিয়ে এসেছে।"
বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত ৭৭৪টি স্লিপের চাল কীভাবে বিতরণ করা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান দাবি করেন, "আমি নিজের উদ্যোগে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই টন চাল কিনে বিতরণ করেছি। চাল কম দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।"
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। স্লিপ থাকা সত্ত্বেও কেন কেউ চাল পাননি—বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের সরকার বলেন, অবরোধের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এসি ল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে লিখিত আবেদন পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।