
কাফ ইনজুরি বা পায়ের ডিমের চোট কাটিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে অনুশীলনে ফিরেছেন সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। প্রিয় তারকাকে আবারও সতীর্থদের সঙ্গে ফুটবল মাঠে গা গরম করতে দেখে গ্যালারিতে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমী এবং সাংবাদিকদের মাঝে তুমুল উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ব্রাজিলের মূল স্কোয়াডে পুনরায় প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে এটি ছিল তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধাপ, আর তাই তাকে নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশার পারদও ছিল আকাশচুম্বী।
তবে অনুশীলনের সবুজ ঘাসে নেইমারের প্রথম দিনের পারফরম্যান্স মোটেও ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, বরং তা ছিল বেশ হতাশাজনক। সেলেসাওদের আসন্ন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে এই বিশেষ ট্রেনিং সেশনে নেইমারকে অনেকটাই ধীরগতির এবং শারীরিক গঠনে কিছুটা ভারী বা আনফিট মনে হয়েছে। মাঠের ভেতর তার সহজাত ড্রিবলিং বা চলাফেরার সেই চিরচেনা ক্ষিপ্রতা ও তীক্ষ্ণতা একদমই চোখে পড়েনি; এমনকি বল পায়ে বেশ কয়েকটি ড্রিল বা মুহূর্তে তাকে সম্পূর্ণ ছন্দহীন দেখিয়েছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে নিজের শক্তিমত্তার জোরালো বার্তা দেওয়ার পরিবর্তে নেইমার বরং ফুটবল মহলে নতুন এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন— বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি কি আসলেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত?
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একটা বড় অংশের সমর্থক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নেইমারের জাতীয় দলে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং আবারও সেই বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী ‘১০ নম্বর’ জার্সি গায়ে তাকে দেখার জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অনুশীলনে মাঠে উপস্থিত ফুটবল বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা বেশ অবাক হয়েছেন; কারণ দলের অন্যান্য তরুণ তুর্কিদের তুলনায় নেইমারকে অনেক কম সক্রিয় ও অলস মনে হয়েছে। বিপরীত চিত্রে, স্কোয়াডের বাকি ফুটবলাররা পুরো প্র্যাকটিস সেশন জুড়ে তাদের অবিশ্বাস্য গতি, স্ট্যামিনা ও বিস্ফোরক শক্তির প্রদর্শন করে কোচের নজর কেড়েছেন।
ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের বর্তমান অবস্থান ও অপরিহার্যতা নিয়ে ফুটবলপাড়ায় বিতর্ক বেশ পুরোনো এবং তা এখনো সমানে চলছে। সমালোচকদের একাংশ এখনও প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলছেন যে, বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় তিনি আদৌ জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য কি না। তবে রূঢ় বাস্তবতা হলো, ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে দলে তার অন্তর্ভুক্তি ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র ফর্মে থাকা সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিটি নেইমারকেই দেওয়া হয়েছে। অনেক ফুটবল বোদ্ধার মতে, এখানে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বা মাঠের কার্যকারিতার চেয়ে নেইমারের গ্লোবাল স্টার বা তারকা মর্যাদাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
অনুশীলন ক্যাম্পে তার এই বিবর্ণ পারফরম্যান্স মূলত সেই সুপ্ত বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন মাঠে নেমে তিনি দলকে কতটা সার্ভিস দিতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয়ের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। বিশেষ করে সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই মুহূর্তে নেইমারের চেয়ে ইনফর্ম তরুণ স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রোকে দলে সুযোগ দেওয়াটা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত ও দলের জন্য কল্যাণকর হতো।
আপাতত বিশ্বজুড়ে থাকা সাম্বা ফুটবলের কোটি ভক্তের সমস্ত নজর এখন নেইমারের ওপরই নিবন্ধিত। ব্রাজিলিয়ানরা এখন অধীর আগ্রহে দেখছেন— নেইমার কি তার মাঠের জাদুতে সমস্ত প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে পারবেন, নাকি সংশয়বাদীদের সন্দেহই শেষ পর্যন্ত সত্যে পরিণত হবে?