
ভারতে নিট পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এবার নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঝাড়খণ্ড। রাজ্যের ১৪তম ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের (JPSC) সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন হাজারো চাকরিপ্রার্থী। শনিবার বিক্ষোভের ১৫তম দিনে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের কাছে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
গত ২৫ জুলাই রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। ১৪তম লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন তারা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের স্বাধীন তদন্ত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, পুরো ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে। বিজেপির বিধায়কেরা ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় বিক্ষোভ করে ঘটনার কেন্দ্রীয় তদন্ত দাবি করেছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তদন্তে শিক্ষার্থীদের আস্থা নেই। তবে রাজ্য সরকারের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকার।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগও নিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে। শিক্ষার্থীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের প্রধান দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা। এরই মধ্যে ছয় বিক্ষোভকারী অনশন করছেন। পাশাপাশি আগামী ১০ আগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারীরা।
ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন ঝাড়খণ্ড সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।