
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কে অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, কিংবা তিনি অংশ না নিলে বাংলাদেশ থেকে অন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হবে কি না—এ বিষয়ে ভারতের কাছেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। সম্মেলন শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার কথা জানানো হলো।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতের কাছে নতুন তথ্য নেই
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ওই আমন্ত্রণ জানানো হয়।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে জটিল হয়েছে দ্বিপক্ষীয় সফর
তবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলার সময় ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগ, ভারতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা নিয়মিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও জোরালো হয়। পাশাপাশি ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো থেকে তাঁকে বিরত রাখার জন্য নয়াদিল্লির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ কীভাবে অংশ নেবে, সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়েও রণধীর জয়সোয়ালকে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা, বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
এক সাংবাদিক জানতে চান, এসব সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নিয়ে ভারত সরকারের কোনো বক্তব্য রয়েছে কি না। জবাবে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।
এরপর আরেক সাংবাদিক শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো সমঝোতা হয়নি এবং সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো নেপথ্য আলোচনাও চলছে না।
দেশে ফেরার পর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।
এসব বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কোনো তথ্য জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে জয়সোয়াল বলেন, এ বিষয়েও তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।
দিল্লিতে আরেকটি অনুষ্ঠানেও অনুমতি মেলেনি
এদিকে গত ৫ আগস্টের পর নয়াদিল্লির ওই সংবাদকেন্দ্রে আরও একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
সব মিলিয়ে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে সম্মেলনে যাবেন, নাকি তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন—শুক্রবার পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো তথ্য দিতে পারেনি।