
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। রুমিন ফারহানা জানান, কিছু এলাকায় তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে প্রশাসনকে জানানো হবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমা পড়া ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় তার মনে কোনো কষ্ট বা ক্ষোভ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দলের কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিনি কাজ করেছেন এবং যে দায়িত্বগুলো পেয়েছেন, সেগুলো অনেক সময় তার বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়েও বড় ছিল।
তিনি আরও বলেন, “২০২২ সালের ডিসেম্বরে দল আমাকে পদত্যাগ করতে বললে আমি কোনো দ্বিধা না করেই তা মেনে নিয়েছিলাম। দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন, সেটিও আমি স্বাগত জানাই। দল যদি মনে করে তার প্রয়োজন নেই, সেটিও তিনি মেনে নিয়েছেন—তবে নিজের পথেই রাজনীতি চালিয়ে যাবেন।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বৈধ প্রার্থী মোট ১১ জন। এর মধ্যে জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা প্রায় ১৭ বছর ধরে বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্যও ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে গণসংযোগ চালাচ্ছেন তিনি।