
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের জার্সি গায়ে মাঠে পা রাখতেই ইতিহাস লিখে ফেললেন লিওনেল মেসি। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ ছয়টি বিশ্বকাপ আসরে খেলার অনন্য এক কীর্তি এখন তাঁর ঝুলিতে। ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটেই বল জালে জড়িয়ে বুনো উল্লাসে মেতেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, তবে সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় সেই আনন্দ ক্ষণিকের জন্য ম্লান হয়ে যায়।
কিন্তু রেকর্ড যার পায়ের ভৃত্য, তাকে কি আর আটকে রাখা যায়! গোল বাতিলের ঠিক ১২ মিনিট পরেই জাদুকরী এক গোল করে বসেন তিনি, যা ভেঙে দেয় ৬০ বছরের এক প্রাচীন রেকর্ড।
আজকের বহুল আলোচিত এই ম্যাচের ১৭তম মিনিটে সতীর্থ রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন মেসি। এরপর আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে নাচিয়ে দুর্দান্ত এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এই চোখধাঁধানো গোলের মধ্য দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এই মহাতারকার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪-তে। যার মধ্যে পাঁচটি গোলই এসেছে ডি-বক্সের দূর সীমানা তথা বাইরে থেকে। ফুটবলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা জো’ তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নিশ্চিত করেছে যে, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বক্সের বাইরে থেকে ৫টি গোল করার এই কীর্তি মেসির পাশাপাশি কেবল ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো রিভেলিনোর ছিল।
ষাট বছরের পুরোনো এই রেকর্ডের পাশাপাশি ১৬ জুন তারিখটিকেও নিজের ক্যারিয়ারের এক বৃত্তে মেলালেন এলএম১০।
আজ থেকে ঠিক দুই দশক আগে, ২০০৬ সালের ১৬ জুন সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেছিলেন তিনি। ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে করা সেই গোলের মাধ্যমে আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসের কনিষ্ঠতম গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। আর ঠিক ২০ বছর পর, আরেকটি ১৬ জুনে এসে দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন তিনি।
কানসাস সিটিতে যখন আলজেরিয়ার জালে বল পাঠান, তখন মেসির বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় তখন ছিল ১৬ জুন।
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচই নয়, বরং আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে এটি তাঁর ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিজের এই ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র ম্যাচটিকে গোল দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন ফুটবলের এই জাদুকর।
মেসির এই একক গোলের ওপর ভর করে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এই গোলের মাধ্যমে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও স্পর্শ করেছেন। বিশ্বফুটবলের এই দুই মহাতারকা এখন ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি আলাদা বিশ্বকাপ আসরে গোল করার যৌথ রেকর্ডের মালিক।