
ব্রাজিলের ফুটবল এখন আর আগের মতো নেই বলে মনে করেন কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিও। তার মতে, দুটি মূল কারণে সেলেসাওদের ফুটবলে আগের সেই জৌলুশ ও আধিপত্য কমে গেছে। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন, অন্যটি বিশ্ব ফুটবলের রূপরেখার রূপান্তর।
২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ জিততে না পারা ব্রাজিল দল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর ফাইনালের মঞ্চেও ফিরতে পারেনি। একসময় একের পর এক তারকা ফুটবলার উপহার দেওয়া দেশটি এখন আগের মতো ধারাবাহিকভাবে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করতে পারছে না বলেও সমালোচনা বাড়ছে।
ফরাসি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোমারিও বলেন, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল এখন এমন খেলোয়াড় তৈরি করতে পারছে না যারা ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কারের জন্য নিয়মিত লড়াই করবে। তার ভাষায়, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল এখন আর ১৫ বা ২০ বছর আগের মতো ব্যালন ডি’অরের জন্য লড়াই করার মতো খেলোয়াড় তৈরি করতে পারছে না।’
প্রথম কারণ হিসেবে রোমারিও উল্লেখ করেন ‘স্ট্রিট সকার’ বা গলির ফুটবলের বিলুপ্তি। তার মতে, বস্তি ও রাস্তায় খেলে বড় হওয়া খেলোয়াড়দের সৃজনশীলতা ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের প্রাণ। কিন্তু আধুনিক সময়ে কাঠামোবদ্ধ ও কৃত্রিম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় সেই স্বাভাবিক প্রতিভার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আধুনিক ফুটবলে শৈল্পিক ফুটবলের চেয়ে শারীরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, শক্তি ও গতির ওপর নির্ভরতা বাড়ায় ব্রাজিলের স্বাভাবিক ফ্লেয়ার ও সৃজনশীলতা কমে যাচ্ছে, ফলে একক নৈপুণ্যে ম্যাচ জেতানোর মতো খেলোয়াড়ও কমে আসছে।
এই বাস্তবতার প্রভাব হিসেবে ২০০৭ সালে কাকার পর কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। নেইমার একাধিকবার কাছাকাছি গেলেও এবং ভিনিসিয়ুস ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউই পুরস্কারটি নিশ্চিতভাবে নিজেদের করে নিতে পারেননি।
আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে রোমারিও মনে করেন, এখন আর কোনো একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে এগোনো উচিত নয়। তার মতে, দলে রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং জোয়াও পেদ্রো ও এস্তেভাওয়ের মতো তরুণ প্রতিভা থাকলেও সমষ্টিগত দায়িত্বই হবে মূল শক্তি।