
বুরুন্ডির অর্থনৈতিক কেন্দ্র বুজুম্বুরায় একটি সামরিক ঘাঁটির গোলাবারুদ ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন, আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ—ঘটনাটি দেশটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংঘটিত এই বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বুজুম্বুরার মুসাগা এলাকায় ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের প্রধান গোলাবারুদ ডিপোতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত গোলাবারুদের ভাণ্ডারে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে বড় ধরনের বিস্ফোরণে রূপ নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, হতাহত মোট প্রায় ৭০ জনের মধ্যে তিনজন সেনাসদস্যও রয়েছেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের বাড়িঘর ও যানবাহন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তীব্র পানি সংকটের কারণে উদ্ধার ও নেভানোর কাজ ব্যাহত হয়।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটিকেই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে, যা বুরুন্ডির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোক ছড়িয়ে পড়েছে। আহতদের দ্রুত আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
এই ঘটনার পর বুরুন্ডি সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে এমন একটি সংবেদনশীল স্থাপনায় বৈদ্যুতিক ত্রুটি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুজুম্বুরার এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দেশের সব সামরিক স্থাপনায় নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স