
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আকস্মিকভাবে এক বড় ধরনের বৈশ্বিক কারিগরি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর থেকে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ব্যবহারকারী এই প্ল্যাটফর্মটিতে প্রবেশ করতে বা এটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। হঠাৎ করে ফেসবুকের সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহারকারীদের অভিযোগের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইটের বিভ্রাট ও ডাউনটাইম পর্যবেক্ষণকারী জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক পোর্টাল ‘ইজডাউন’ (IsDown) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ হাজার ৭০০-এরও বেশি ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহারে নানা জটিলতার সম্মুখীন হয়ে তাদের পোর্টালে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন।
প্ল্যাটফর্মটি নিশ্চিত করেছে, আজ দুপুরের পর থেকেই ফেসবুকের সার্ভারে সক্রিয় ত্রুটি বা সমস্যা শনাক্ত করা গেছে। এই বিভ্রাট কেবল নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা অঞ্চলের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা এতে ব্যাপকভাবে ভুক্তভোগী হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইন থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী ফেসবুক ডাউন থাকার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন।
বিগত ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে নিয়মিত ফেসবুকের সার্ভার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে ইজডাউন কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, এই দীর্ঘ সময়কালের মধ্যে তারা ফেসবুকে ছোট-বড় মিলিয়ে সর্বমোট ১৩৭টি বিভ্রাটের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। সর্বশেষ আজ ফেসবুকের বর্তমান পরিস্থিতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা এই প্ল্যাটফর্মটিতে একটি বড় ধরনের টেকনিক্যাল সমস্যার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।
তবে ঠিক কী ধরণের কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বৈশ্বিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হলো, সমস্যাটির প্রকৃত সূত্রপাত কখন থেকে কিংবা ঠিক কখন নাগাদ ফেসবুকের এই সেবা পুরোপুরি সচল ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে—সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ফেসবুকের মূল মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি কিংবা কোনো দুঃখপ্রকাশও করা হয়নি।
বর্তমানে যে সমস্ত ব্যবহারকারী ফেসবুকের নিউজফিড লোড করতে পারছেন না, মেসেজ পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন কিংবা লগ-ইন সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন, তাদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু এটি একটি বৈশ্বিক সার্ভারজনিত সমস্যা, তাই মেটার কারিগরি দল ইতিমধ্যেই সার্ভার সচল করার ব্যাক-এন্ড কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে পুরো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ইউনিল্যাড