
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপানির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানের স্বপ্নভঙ্গের পর চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে। ক্ষুব্ধ ও হতাশ সমর্থকদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন; এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৫ জন দাঙ্গাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (১৯ জুলাই) ফাইনাল বাঁশি বাজার পরপরই হাজার হাজার শোকার্ত সমর্থক বুয়েনস আয়ার্সের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে সমবেত হন। শুরুর দিকে নিছক হতাশা প্রকাশের কর্মসূচি হলেও সময়ের ব্যবধানে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উত্তেজিত সমর্থকেরা অনবরত ইট, পাথরের টুকরো ও কাচের বোতল ছুড়ে দাঙ্গা পুলিশকে নিশানা করতে থাকে। জবাবে বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের সেল, জলকামান ও রাবার বুলেট প্রয়োগ করে। নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ফুটেজে এক দাঙ্গা পুলিশকে মাটিতে পড়ে থাকা বিক্ষোভকারীর মাথায় সজোরে লাথি মারতেও দেখা গেছে।
মাঠের খেলা গড়ালেও উত্তেজনার পারদ ছড়ায় দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যেও। হারের চরম হতাশায় আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় স্প্যানিশ ফুটবলারদের ওপর চড়াও হয়ে সরাসরি কিল-ঘুষি ও লাথিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বিশ্বজয়ী স্প্যানিশ দল যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরছিল, তখন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা প্রতিপক্ষের দিকে ক্ষোভ থেকে পিঠ ফিরিয়ে অবস্থান নেন।
এমন হৃদয়বিদারক হারের পরও জাতীয় দলের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেননি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই; দলকে সম্মান জানাতে তিনি দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিশ্বজয়ী রানার্স-আপ খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফেরা যে দিনটিকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, সেদিনই এই রাষ্ট্রীয় ছুটি কার্যকর হবে। জানা গেছে, নিজস্ব কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসের কারণেই তিনি নিউ জার্সির স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেননি।
অন্যদিকে, শিরোপাজয়ী স্পেন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা না করলেও সোমবার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে এক রাজকীয় বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজকীয় সংবর্ধনা প্রদান করবেন।