
কোনো ম্যাচে হার না মানলেও গোল ব্যবধান ও গ্রুপের সমীকরণে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে। দলটির বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তার মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান মার্কওয়েন মুলিন দাবি করেছেন, ইরান বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় তিনি খুশি হয়েছেন, এমনকি আনন্দে নেচেও উঠেছিলেন।
ইরান গ্রুপপর্বে তিনটি ম্যাচই ড্র করে। তাদের আশা ছিল সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার। তবে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ায় সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। ম্যাচটির শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোল এবং ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও ওঠে, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি।
এ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘আমি খুশি যে তাদের বিদায় হয়েছে, তারা আর ফিরবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ভিসা বাতিল হবে এবং তারা মার্কিন মাটি ছেড়ে যাবে জেনে আমরা খুব খুশি। আমি হয়তো একটা-দুটো গান গেয়েছিলাম, কিংবা খুশিতে নেচেও উঠেছিলাম। ইরানের মতো আর কোনো দলের জন্য আমাদের এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়নি।’
বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও বিতর্ক ছিল। দেশটির তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হলেও দলের বেস ক্যাম্প ছিল মেক্সিকোয়। ফলে প্রতিটি ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলে আবার মেক্সিকোয় ফিরতে হয়েছে ইরান দলকে।
এ নিয়ে ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই অভিযোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে এবং প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় অনুশীলনের অর্ধেকেরও কম সুযোগ দিয়েছে।’
দলের অধিনায়ক মেহদি তারেমিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘এই ধরনের চাপ বিশ্বকাপের আনন্দ ম্লান করে দেয়। আমরা শুরু থেকেই সেই চাপ অনুভব করেছি।’