
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত নতুন বাজেট নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি সরকারপ্রধানের সাম্প্রতিক মনোভাব নিয়ে এক ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ দেখে আমাদেরও মন খারাপ’। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দল জনস্বার্থে যৌক্তিক সমালোচনা করলেই কেন প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ হবে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদে পেশকৃত বাজেট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, তাঁরা আসলে সরকারের এই বাজেটের সাধুবাদ জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার বাজেটে দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের পথগুলো বন্ধ করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ব্যাংক দখলদারিত্ব বন্ধে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। যার কারণে বাজেটের বরাদ্দের কত অংশ প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে খরচ হবে, আর কত টাকা শাসক দলের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত পকেটে ঢুকবে—তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।
ঘোষিত এই বাজেটের সাথে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় হুইপ আরও বলেন:
"জনগণকে যে স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, সেই স্বপ্ন পূরণে সরকার ব্যর্থ হবে। এমন একটি বাজেট দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়নে দেশকে বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নিতে হবে। এই বাজেটের সমালোচনা যৌক্তিক সমালোচনা।"
দেশের চলমান নাজুক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সমাবেশে বলেন, বর্তমান সময়ে বিদ্যুতের মূল্য নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক মাত্রায় বাড়ানো হয়েছে। এত কিছুর পরও দেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও চরম অস্থিতিশীল ও বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ঋণনির্ভর বাজেট বাংলাদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক ভাগ্যের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনতে পারবে না।
রাষ্ট্রের সার্বিক সংকট উত্তরণে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের আমূল পরিবর্তন করতে হলে সুনির্দিষ্ট গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে সরকার গঠন করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সকল কাঠামোর জরুরি সংস্কারের দাবি জানান। চট্টগ্রামে সদ্য ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনার দিকে আঙুল তুলে তিনি অভিযোগ করেন, খোদ চট্টগ্রামেই জাতীয় দলের এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে পুলিশ কর্তৃক নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে, অথচ দুঃখজনকভাবে পুলিশ প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর বা দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।