
আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠন শক্তিশালী করতে ভিন্নধর্মী কৌশল নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজপথের আন্দোলন থেকে উঠে আসা দলটি এখন মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে অবস্থান সুদৃঢ় করতে বড় দলগুলোর ‘অভিমানী’ ও ‘বঞ্চিত’ নেতাকর্মীদের নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দীর্ঘদিনের ত্যাগী কিন্তু বর্তমানে কোণঠাসা নেতাদের দিকে এনসিপির নজর বেশি থাকলেও, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর সাবেক সদস্যদের জন্যও দলটির দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসা এনসিপি বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের অংশ হয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সক্রিয়। তবে রাজপথের পাশাপাশি এখন তাদের মূল লক্ষ্য আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এজন্য বড় দলগুলোর অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সংগঠন বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মেয়র মনজুর আলম–এর বাসভবনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ–র বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। একইসঙ্গে রুমিন ফারহানা এবং যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকার–এর মতো পরিচিত ব্যক্তিরা এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন—এমন গুঞ্জন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
দলটির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম এই প্রক্রিয়াকে ‘দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের এনসিপি স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এ কৌশলের পক্ষে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান–এর রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, যেসব যোগ্য ব্যক্তি অবমূল্যায়িত বা স্বজনপ্রীতির শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য এনসিপি একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হতে চায়।
সাংগঠনিক সম্প্রসারণে দলটি একটি মধ্যপন্থা অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। শীর্ষ নেতাদের মতে, ফ্যাসিবাদের সহযোগী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—এমন যে কেউ এনসিপির আদর্শে বিশ্বাসী হলে তাকে দলে নেওয়া হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সারজিস আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের নেতিবাচক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে সাবেক আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ সদস্যদের জন্যও এনসিপিতে যোগদানের সুযোগ রয়েছে।
সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ ও মধ্যপন্থী রাজনীতির বার্তা সামনে রেখে এনসিপি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দলে টানছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, বড় দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা নির্বাচনে তারা চমক দেখাতে সক্ষম হবে। এই কৌশল স্থানীয় রাজনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জটিল করে তুলছে।