
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, “বিএনপির কাছে যে জুলাই সনদ পাঠানো হয়েছে, সই করার মুহূর্তেই বিদ্যমান সংবিধান পরিবর্তিত হয়ে যাবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এর কোনো দ্বিতীয় উদাহরণ নেই।”
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলানগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আগামী কয়েক দিনে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। পৃথিবীর সব দেশে সংবিধান সংশোধন করেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। কিন্তু বাংলাদেশে একদল অনির্বাচিত লোক, যারা কেউ আমেরিকা থেকে, কেউ লন্ডন থেকে এসেছেন, তারা বাংলাদেশের সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চাইছে। এই সংবিধান শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রামের ফল—বাহাত্তরের সংবিধান। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের সংবিধান নয়। যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা ইতিমধ্যেই সংবিধান সংশোধন করেছে। তবে কেন মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংবিধানকে বাতিল করতে হবে, তা আমার বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “সংবিধান সংশোধনের একমাত্র অধিকার আছে আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। জাতীয় সংসদ ছাড়া অন্য কেউ সংবিধান সংশোধন করার অধিকার রাখে না।”
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আহসান। শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী। এছাড়া শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের তিনজন বক্তৃতা রাখেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফরিদ হোসন ও দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ।