
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছেন। প্রাথমিকভাবে গণমাধ্যমে ভুলভাবে বলা হয়েছিল তারা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখেছেন, পরে জানা যায় তারা ‘প্রোজেক্ট হেইল মেরি’ নামে একটি ইংরেজি চলচ্চিত্র দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সিনেমা দেখা প্রসঙ্গে সাংবাদিক ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান তার অনুভূতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন, যেখানে তারেক রহমানের চলচ্চিত্র-প্রীতির পাশাপাশি ২০১৫ সালের অবরুদ্ধ অবস্থার স্মৃতিচারণও করেন তিনি।
২০১৫ সালের শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ৮৬ নম্বর সড়কে অবরুদ্ধ ছিল। ট্রাক, জলকামান ও পুলিশের বড় দল দিয়ে সড়ক বন্ধ করা হয়। ওই সময়ে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের জন্য সমাবেশ এবং মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও পুলিশ তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খানের নেতৃত্বে ক্যাডার বাহিনী এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে একদল শিল্পীও কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী।
মারুফ কামাল খান তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, চঞ্চল ওই সময়ে কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত ছিলেন এবং তার আস্ফালনে বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে।
তিনি লেখেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র চিত্রণ করেছে চঞ্চল চৌধুরী। চঞ্চল ভালো অভিনেতা। তবে হাসিনা ভক্ত ও আওয়ামী সমর্থক। তাতেও আমার আপত্তি নেই। কিন্তু চঞ্চল হাসিনা গংয়ের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে মদত জুগিয়েছে।’
চঞ্চল চৌধুরীর প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘গুলশান অফিসে ম্যাডাম খালেদা জিয়াসহ আমাদেরকে যখন তিন মাস অন্যায়ভাবে জবরদস্তি করে আটকে রাখা হয়েছিল, তখন এই চঞ্চল আরও অনেকের সঙ্গে এসে মস্তানি করতো। আমাদের ফাঁসি দাবি করতো। আমাদের ওপর আক্রমণ চালাবার মহড়া করতো। তাই ওর নাম শুনলে বা চেহারা দেখলেই রাগে ক্ষোভে দুঃখে ঘৃণায় আমার শরীর কাঁপতে থাকে।’
মারুফ কামাল খানের স্মৃতিচারণে দেখা যায়, তখনকার রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে গভীরভাবে ধারণ আছে।