
ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরতে নোয়াখালী থেকে রওনা দিয়েছিলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৯ বন্ধু। বাসভাড়া বেশি চাওয়ায় সামান্য টাকা বাঁচাতে তারা যাত্রীবাহী বাসের বদলে ওঠেন রডবোঝাই একটি ট্রাকে। কিন্তু বাড়ি ফেরার সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় মর্মান্তিক মৃত্যুর পথে। টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।
রোববার (২৪ মে) গভীর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী থেকে আসা রডবোঝাই ট্রাকটি যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে ট্রাকটি উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১ নম্বর ভারশোঁ ইউনিয়নের ৯ বাসিন্দা রয়েছেন। তারা সবাই ঈদ উপলক্ষে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। নিহতরা হলেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক, আব্দুল বারেক, বাদশা, সোহাগ, রবিউল ও সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের দুই ভাই মাইনুল ও গিয়াসও মারা গেছেন।
স্বজনরা জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে বিভিন্ন পুরোনো জিনিসপত্র কেনাবেচার কাজ করতেন। ঈদের আগে সবাই মিলে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করেন।
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন বলেন, ‘বাসে জনপ্রতি অনেক বেশি ভাড়া চাইছিল। তাই ছেলেরা ভাবছিল কিছু টাকা বাঁচবে। কে জানত, সেই সিদ্ধান্তই তাদের জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত হবে।’
দুর্ঘটনার পর মান্দার বিভিন্ন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে এতজন তরুণের মৃত্যুতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি বাড়ি চলছে আহাজারি। অনেক পরিবারই একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে।