
প্রাচীন দুর্গ রক্ষার কৌশল যেন নতুন রূপে ফিরে আসছে আধুনিক যুগে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, প্রায় ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের উল্লেখযোগ্য অংশ নদী ও জলাভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত, যেখানে প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে বিএসএফ একটি ব্যতিক্রমধর্মী কৌশলের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে।
গত ২৬ মার্চ বিএসএফের ইস্টার্ন ও নর্থ-ইস্টার্ন সেক্টরের সদর দপ্তরে পাঠানো এক গোপন বার্তায় বলা হয়েছে, যেসব এলাকায় ভৌগোলিক কারণে বেড়া দেওয়া যায় না—বিশেষ করে নদী বা পাহাড়ি ছড়ায়—সেখানে অপারেশনাল প্রয়োজনে কুমির বা সাপ মোতায়েন করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক প্রস্তাবের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ফ্লোরিডায় ‘অলিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে পরিচিত একটি ডিটেনশন সেন্টারের চারপাশে প্রাকৃতিকভাবে কুমির ও অজগরের উপস্থিতি বন্দিদের পালানো ঠেকাতে ভূমিকা রাখে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তের রিও গ্র্যান্ডে নদীতেও এমন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন, যদিও পরে সেটিকে তিনি রসিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ভারত এই ধারণাকে বাস্তব কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বিএসএফের জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। প্রায় ৬,২০০ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত ২.৬৫ লাখ সদস্যের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ দায়িত্বে ব্যস্ত থাকে। পাশাপাশি বাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ সদস্যের বয়স ৪৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং আরও ২০ শতাংশ সদস্য শারীরিকভাবে পুরোপুরি সক্ষম নন। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিকল্প পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসএফকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বাহিনীতে পরিণত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘ই-বর্ডার’ বা ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। তবুও ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার এখনো বেড়াহীন রয়ে গেছে, যার মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমির কারণে বেড়া দেওয়ার অযোগ্য।
মূলত এই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে কুমির ও সাপ ব্যবহারের মতো কঠোর ও ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা বিবেচনায় আনা হয়েছে।