
লাল-সবুজের ফুটবলে আধুনিক ও বিশ্বমানের রণকৌশল যুক্ত করতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের গুরুদায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ থমাস ডুলি। ফুটবলার হিসেবে মাঠ কাঁপানো থেকে শুরু করে ডাগআউটে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে রণকৌশল সাজানো—দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণিল অভিজ্ঞতা। তবে বাফুফের এই হাই-প্রোফাইল নিয়োগের পর দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই কৌতূহল, আসলে কে এই থমাস ডুলি?
জার্মানিতে জন্ম, আমেরিকার বিশ্বকাপ অধিনায়ক
থমাস ডুলির জন্ম ফুটবল পরাশক্তি জার্মানিতে হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি প্রতিনিধিত্ব করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ১৯৯৪ সালে আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দলটির রক্ষণভাগের (ডিফেন্ডার) অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। এর ঠিক চার বছর পর, ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব তথা অধিনায়কের (ক্যাপ্টেন) আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেতৃত্ব দেন।
ক্লিন্সম্যানের সহকারী থেকে ফিলিপাইনের রূপকথা
বুটজোড়া তুলে রাখার পর মাঠের সবুজ গালিচা ছেড়ে ডাগআউটেও সমান পারদর্শিতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ডুলি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি ট্যাকটিশিয়ান ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করে নিজের ঝুলিকে সমৃদ্ধ করেছেন।
সহকারী কোচের তকমা ঝেড়ে ফেলে পরবর্তীতে তিনি ফিলিপাইন জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়ে রীতিমতো ইতিহাস পুনর্লিখন করেন। ডুলির জাদুকরী ছোঁয়া ও প্রশিক্ষণে ফিলিপাইন দল পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার গৌরব নিয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একই সাথে তাঁর অধীনেই দলটি ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়েছিল।
বাংলাদেশের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার ঠিক আগে তিনি গায়ানা জাতীয় ফুটবল দলের কোচের আসনে বসেছিলেন। সেখানে তাঁর অধীনে খেলা টানা চার ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের স্বাদ পায় দলটি।
লাল-সবুজের নতুন স্বপ্ন ও বাফুফের প্রত্যাশা
তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান নতুন দল গড়ে তোলার বিশেষ কারিশমা এবং এশিয়ার ফুটবলের সামগ্রিক বাস্তবতা ও মাঠের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীর ধারণা নিয়েই এবার ঢাকায় আসছেন থমাস ডুলি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, দেশের একঝাঁক তরুণ ফুটবলারের সুপ্ত সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং সফল করে তোলাই হবে ডুলির প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষ করে এশিয়ার ফুটবলের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ডুলির পূর্ব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলকে দীর্ঘমেয়াদে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য পেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গভীরভাবে আশাবাদী বাফুফে।