
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন মাইজখাপন ইউনিয়নের কালাইহাটি গ্রামে জমি বন্ধকের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক অসহায় বিধবাকে খুন ও জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত ২৯ জুন ভুক্তভোগী নারী রওশনা বেগম (৫০) কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ জুলাই উপজেলার কালাইহাটি গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম কাজল মিয়া (৪৫)-এর কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৫০ শতাংশ ধানি জমি বন্ধক রাখেন রওশনা বেগম। এ সময় উভয় পক্ষ ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কার্টিজ পেপারে একটি লিখিত চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চুক্তির পর প্রথম দিকে তিনটি মৌসুমের মধ্যে দুটি মৌসুমের ফসল পেলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে ভুক্তভোগীকে জমির কোনো ফসল বা লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি তৃতীয় মৌসুমের ফসলও স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আদায় করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী রওশনা বেগম জানান, গত ১৮ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি কাজল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে বন্ধক বাবদ দেওয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত চান। এ সময় কাজল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশ ও মারধরের হুমকি দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রতন মিয়া বলেন, রওশনা বেগমের সরলতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত কাজল মিয়া তার টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
একই গ্রামের আব্দুল হেলিম বলেন, এটি বহু বছরের লেনদেন। আমাদের উপস্থিতিতেই রওশনা বেগম ও কাজল মিয়ার মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। প্রথম দিকে দুটি মৌসুমের ফসল নিয়মিত দেওয়া হলেও তৃতীয় মৌসুমের ফসল স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আদায় করতে হয়েছে। বর্তমানে কাজল বিএনপির পদ পাওয়ার পর আর ফসল দিচ্ছেন না বলে শুনেছি। টাকা চাইতে গেলে তিনি রওশনা বেগমের ওপর চড়াও হন এবং মামলা করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কাজল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি তাকে নিয়মিত চুক্তি অনুযায়ী লাভ (ফসলের অংশ) দিয়ে আসছি। তবে তিনি এখন লাভ নিতে না চেয়ে মূল টাকা ফেরত চাইছেন। আমি তাকে জানিয়েছি, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরে মূল টাকা পরিশোধ করব। এছাড়া তাকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি।"
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।