
চার বছর পেরিয়ে গেলেও নোয়াখালীর চাটখিলের বহুল আলোচিত পাঁচ বছর বয়সী শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় চূড়ান্ত বিচার পেতে ভুক্তভোগী পরিবারের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণার দিনক্ষণ তৃতীয়বারের মতো পিছিয়ে আগামী ৬ জুলাই নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
বুধবার (১ জুলাই) জেলার বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার রায় পেছানোর এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে গঠিত বিশেষ এই ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ চার বছর ধরে মামলাটির বিচারকাজ চলছে। এর আগে গত ২৪ মে প্রথমবার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা এক মাস পিছিয়ে ২৪ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তা আবারও পিছিয়ে ১ জুলাই ধার্য করা হলেও আজ তৃতীয় দফায় তারিখ পরিবর্তন করে ৬ জুলাই করা হলো।
মামলার প্রেক্ষাপট ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড
নিহত আসমা আক্তার চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের সন্তান। এই মামলার একমাত্র অভিযুক্ত আসামি শাহাদাত (২৬) একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং নিহত শিশুর জেঠাতো ভাই।
মামলার নথি ও পুলিশি তদন্ত থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ নিজ বাড়ি থেকেই আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয় শিশু আসমা। নিখোঁজের ৯ দিন পর পুলিশ একই বাড়ির বাসিন্দা বাবলু মিয়ার ছেলে শাহাদাতকে (তৎকালীন বয়স ২২ বছর) গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহাদাত স্বীকার করেছিলেন যে, ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
ন্যায়বিচারের আশায় স্বজন ও আইনজীবীরা
আদালতের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাঝে বুকভাঙ্গা আর্তনাদ নিয়ে মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চান আসমার বাবা মো. শাহজাহান। তিনি বলেন:
"আমার নিষ্পাপ মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি। আমি আদালতের কাছে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই। যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।"
মামলার আগের তারিখগুলো উল্লেখ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বলেন:
"২৪ মে রায় হওয়ার কথা থাকলেও আদালত তা পিছিয়ে ২৪ জুন করেছিলেন। আজ দ্বিতীয় দফায় তারিখ পরিবর্তন করে ১ জুলাই করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী ১ জুলাই আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পাবে।"
একইভাবে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি সেলিম শাহী বলেন:
"মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অত্যন্ত জোরালো। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি এবং আশা করি আদালত আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন।"