
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যবহৃত বডিওর্ন ক্যামেরা কেনা হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’ থেকে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভেতরেই সমালোচনা ও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পুলিশের একাধিক টেন্ডার পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি এবারও বডিওর্ন ক্যামেরা সরবরাহ করেছে। ক্যামেরাগুলো ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে গেলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে নারাজ পুলিশের টেলিকম বিভাগ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ক্যামেরা নির্বাচনকালে যথাযথভাবে কাজ না করলে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন ঘিরে দুর্নীতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।
গত বছরের ৯ আগস্ট সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ২৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই দিনই ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব কেনাকাটা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মাধ্যমে করার প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এরই মধ্যে সোর্স মানির অর্থে গোপনীয়ভাবে স্মার্ট টেকনোলজিস থেকে চীন-নির্মিত বডিওর্ন ক্যামেরা কেনা হয়েছে। এ ছাড়া দাহুয়া, টিডিটেক, কেডাকম ও অকজন—এই চারটি প্রতিষ্ঠানও ক্যামেরা সরবরাহে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। যদিও দাহুয়া কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও ক্যামেরা ক্রয়ের প্রক্রিয়া, ব্যয় ও সরবরাহের বিস্তারিত বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি গোষ্ঠী দুর্নীতির পাশাপাশি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও করতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, “নির্বাচনের সময় যদি বডিওর্ন ক্যামেরাগুলো কার্যকরভাবে কাজ না করে, তাহলে তা পুলিশের জন্য বড় সমস্যার কারণ হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ক্যামেরাগুলো ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। তবে এর বাইরে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখল ঠেকাতে এসব বডিওর্ন ক্যামেরায় অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কেউ অস্ত্র, দা, ছুরি বা হকিস্টিক নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে ক্যামেরা থেকে স্বয়ংক্রিয় সতর্ক সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বডিওর্ন ক্যামেরা একটি পোর্টেবল ভিডিও ডিভাইস, যা পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইউনিফর্মে সংযুক্ত করে দায়িত্ব পালনকালে ব্যবহার করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।