
বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা আসর চলাকালেই তৈরি হলো এক বড় ধরনের কূটনৈতিক বিতর্ক। ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব অভিযোগ করেছেন যে, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করা সত্ত্বেও তাকে ভিসা প্রদান করেনি ওয়াশিংটন। স্বাগতিক দেশের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকে চরম ‘অন্যায্য’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনের এই শীর্ষ ফুটবল কর্মকর্তা।
নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পূর্ণাঙ্গ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানদের প্রতিটি বিশ্বকাপেই খেলা উপভোগ করার জন্য স্বাগতিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়ে থাকে। সেই আন্তর্জাতিক রীতি মেনেই ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সশরীরে দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রাজৌব। যদিও ফিলিস্তিন জাতীয় ফুটবল দল এবারের বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, তবুও ফিফার তালিকাভুক্ত বিশেষ অতিথি হিসেবে তাঁর এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট পরিদর্শনের সুযোগ ছিল।
চলমান বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী রাজৌব ইতোমধ্যে অন্য দুই আয়োজক দেশের অন্যতম মেক্সিকো সফলভাবে সফর করেছেন। সেখানে তিনি উদ্বোধনী পরিমণ্ডলে স্বাগতিক মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসে উপভোগও করেছেন। তবে মেক্সিকোর পর এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার অনুমতি না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতি নিয়ে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানকে প্রবেশাধিকার না দেওয়ার এই স্পর্শকাতর বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে অতীত খতিয়ান বলছে, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারী নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নতুন করে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। শুধু তাই নয়, এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার কথা থাকলেও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ভিসাও একইভাবে বাতিল করে দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
অথচ গত বছর খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে আগত ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। তবে সমসাময়িক এই জটিলতার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তিনি কিছুটা সুর নরম করে স্বীকার করেন যে, স্বাগতিক দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সরকার, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ফিফার এককভাবে কিছু করার আইনি সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, গত মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই জিবরিল রাজৌব। ওই হাইপ্রোফাইল সভায় তিনি ইসরাইলের ফুটবল প্রতিনিধি বাসিম শেখ সুলাইমানর সাথে সৌজন্যমূলক করমর্দন (হ্যান্ডশেক) করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান, যা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
পরবর্তীতে বৈশ্বিক মঞ্চে নিজের এমন অনড় অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জিবরিল রাজৌব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়াকে সর্বদা সম্মান করেন, তবে তার মতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিফার আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বন্ধের আহ্বান জানান। রাজৌবের স্পষ্ট ভাষ্য, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সাফাই গেয়ে কথা বলা কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে করমর্দন করা কিংবা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা কোনো অবস্থাতেই তার পক্ষে সম্ভব নয়।