
গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না হওয়ায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণি থেকে পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নুরুন্নবী আলম। এর আগে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরীন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার ০ (শূন্য) থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা সন্তোষজনক নয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ৭ জানুয়ারি বোর্ড চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা কমিটির সভায় ১৩টি প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণি থেকে পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি (যেখানে প্রযোজ্য) স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনোদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিজয়নগরের নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চাঁনপুর আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ; লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তোহা স্মৃতি গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুর সদরের কেমব্রিজ সিটি কলেজ ও রামগতির সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ; কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লালমাই সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ এবং দাউদকান্দির ভাজরা এসইএসডিপি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ; এছাড়া চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জিবগাঁও জেনারেল হক হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও শরীফ উল্ল্যাহ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ছিল ০ (শূন্য) শতাংশ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নুরুন্নবী আলম বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে একাদশ শ্রেণিতে খারাপ ফল করে আসছিল এবং বারবার সতর্ক করার পরও মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্দেশনাটি সাময়িক। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও একাডেমিক কার্যক্রম চালুর সুযোগ পাবে।