
প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দুর্দান্ত সূচনা করেছে আর্সেনাল। শুক্রবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে ২৫ বছর পর শীর্ষ লিগে ফেরা কভেন্ট্রি সিটিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নতুন মৌসুমে শক্তির জানান দিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্সেনাল। ১৫ মিনিটে কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মাত্র আট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় গানাররা।
বিরতির পরও আর্সেনালের আধিপত্য অব্যাহত থাকে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র চার মিনিটের মধ্যে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড তৃতীয় গোলটি করে কভেন্ট্রির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা শেষ করে দেন। ম্যাচ শেষে ওডেগার্ড বলেন, ‘এটি একটি চমৎকার শুরু।’
এই জয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে কোচ আর্তেতার ২৪৯ ম্যাচে ১৫০তম জয় পূর্ণ হলো। তার চেয়ে কম ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরেছেন মাত্র চার কোচ—পেপ গার্দিওলা, জোসে মরিনিও, ইয়ুর্গেন ক্লপ ও স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।
গত মৌসুমে ২২ বছর পর ইংলিশ লিগের শিরোপা জিতেছিল আর্সেনাল। এবার টানা দ্বিতীয় মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। প্রথম ম্যাচের জয় সেই লক্ষ্যের পথে আত্মবিশ্বাস জোগাবে আর্তেতার দলকে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে প্রত্যাবর্তন করা কভেন্ট্রি সিটির শুরুটা হয়েছে হতাশায়। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়ে দলটিকে শীর্ষ লিগে তুলেছিলেন সাবেক চেলসি মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। নতুন মৌসুমের আগে সাতজন খেলোয়াড়কে দলে আনতে প্রায় ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেও আর্সেনালের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের খুব একটা প্রমাণ দিতে পারেনি তারা।
কভেন্ট্রির আক্রমণ ছিল কার্যত নিষ্প্রভ। ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি সফরকারীরা।
তবে ম্যাচটিকে পুরো মৌসুমের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখতে নারাজ ল্যাম্পার্ড। তিনি বলেন, ‘এটি খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় শিক্ষা, তবে শেষ পর্যন্ত তারা চেষ্টা চালিয়ে গেছে। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ইতিবাচক থাকা, কারণ আর্সেনালের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ আমাদের পুরো মৌসুমকে নির্ধারণ করবে না। এখন আমাদের দেখতে হবে কীভাবে আমরা উন্নতি করতে পারি।’