
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনায় অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডকে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের জন্য ভারতের চ্যালেঞ্জগুলো উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারতের জন্যও সহায়ক হবে না। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের সংযত রাখার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সেটি হবে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সফর। তবে সফরের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলো সমাধান করা সম্ভব।
শেখ হাসিনা ও তার অনুসারীরা দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভারতের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনছে না।
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি।
তার মতে, বাংলাদেশের জনগণের অতীতের সঙ্গে একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন। কারণ, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের প্রক্রিয়ায় অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন।
তবে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা এ সংলাপকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করায় কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তারা নিয়ন্ত্রণে থাকলে দুই দেশের সম্পর্কে বড় কোনো সমস্যা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী ঢাকা
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবির বলেন, উপযুক্ত সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী কখনো ভারত সফর করবেন না—এমন কথা বলেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বকে একটি বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের হাইকমিশনার সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন এবং দিল্লি তার পরামর্শকে গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা করেন। ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিলে বাংলাদেশও দুই দেশের সম্পর্কের সব ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের কাছ থেকেই পারস্পরিক আদান-প্রদানের প্রত্যাশা রয়েছে।
তার বক্তব্য, বাংলাদেশ যেমন ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে দেবে না, তেমনি ভারতের কাছ থেকেও একই ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে ঢাকা। দুই দেশের সরকার জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় বসলে যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।