
পাবনার চাটমোহর উপজেলার শ্রীদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দেয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) সোমবার তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম প্রতিদিন বিদ্যালয়ে দেরিতে যান এবং বিদ্যালয় ছুটির আগেই তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস গুলো তিনি ঠিকমতো উদযাপন করেন না। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন ভাষা ব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত উন্নয়ন, আপ্যায়ন, পরিচ্ছন্নতা বিষয়ের বাৎসরিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নজরুল ইসলাম আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগ করা হয়েছে। টিইও এবং এটিইও তার হাতে থাকায় কেউ তার কিছুই করতে পারবে না বলে দম্ভোক্তি করেন।
তিনি বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য পদের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। তিনি বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাহির থেকে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করেছেন। বিদ্যালয় পাঁচ বছরের বয়সের নিচে শিক্ষার্থী ভর্তির কোন অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও তিনি তিন ও চার বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে উল্লেখিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিভাবক সদস্য বানিয়েছেন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, অভিভাবক সদস্য পদের ফরম বিক্রির শেষ তারিখ ১৬/০৬/২০২৬ এবং জমাদানের শেষ তারিখ ১৭/০৬/২০২৬ ছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কোন প্রকার লিখিত/মৌখিক নোটিশ ব্যতিত ২৫/৬/২০২৬ তারিখে চারটি ফরম বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার দ্বারা নির্বাচিত একজন অভিভাবক সদস্য (পুরুষ) এবং একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য (পুরুষ) মাদকসেবী বলে পরিচিত। তারা কোনভাবেই সদস্য হবার যোগ্যতা রাখেন না।
এসব অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বদলি, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বাতিল সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় গত ১৬ আগস্ট। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামীকাল ৩১ আগস্ট বিদ্যালয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসলাম হোসাইনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাবার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মালেক নামের একজন প্রভাষক তিনি সভাপতি হতে চান। সেইসাথে পুরো কমিটি তিনি নিজের মতে করে গঠন করতে চান। আমি সেটা মানিনি। আমি বৈধভাবে কমিটি করতে চাই। এজন্য ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। যার কোনো ভিত্তি নেই।