খাবার পানি, গ্যাস এবং তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কটে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচি। বেশ কিছু দিন ধরে চলতে থাকা তীব্র পানি সঙ্কটের সাথে এবার যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন ঘাটতি। তীব্র দাবদাহের মধ্যে এই ত্রিমুখী সঙ্কটে পড়ে করাচির জনজীবন এখন পুরোপুরি ওষ্ঠাগত, যার ফলে শহরজুড়ে তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন তৎপরতা চালানোর দাবি করলেও, একের পর এক এলাকায় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে।
করাচির ‘ফেডারেল বি’ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসিফ অভিযোগ করেন, গ্যাসের পাইপলাইনে সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে দৈনন্দিন রান্নাবান্না করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে চড়া দামে বিকল্প গ্যাস কিনছেন, আবার অনেক পরিবারে রান্নাবান্না সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তারা বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে খাবার কিনে খাচ্ছেন।
তবে গ্রাহকদের এমন হাহাকারের মধ্যেও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানি’ দাবি করেছে, সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেসব নির্দিষ্ট এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে, সেখানে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
গ্যাসের পাশাপাশি পানির তীব্র সঙ্কট করাচিকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। সাইমা বিবি নামে শহরের এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত তিন দিন ধরে আমাদের এলাকায় এক ফোঁটা পানিও আসেনি। বাধ্য হয়ে পুরো এলাকার মানুষ নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে চড়া দামে বেসরকারি পানির ট্যাঙ্কার ভাড়া করে এনে কোনোমতে জরুরি প্রয়োজন মেটাচ্ছেন।”
এদিকে, পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে করাচিতে শুরু হয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সঙ্কট। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিন ও রাত মিলিয়ে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।
প্রচণ্ড গরমে একদিকে ঘরে টেকা দায়, অন্যদিকে পানি ও গ্যাসের তীব্র সঙ্কট—সব মিলিয়ে করাচির নাগরিকদের সহ্যক্ষমতার বাঁধ ভেঙে গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ রাস্তাঘাটে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে এই জনরোষ বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।