
ক্রিকেট মাঠের অলরাউন্ডার থেকে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা সাকিব আল হাসান নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এবার অত্যন্ত স্পষ্ট ও সাহসী বার্তা দিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও দলটির প্রতি নিজের আনুগত্য বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মাগুরা-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য। তার মতে, একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে দীর্ঘকাল দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং তিনি কখনোই দল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন না।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। ৫ আগস্ট সরকার পতনের সময় দেশের বাইরে থাকায় তিনি আর ফেরেননি। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
আদর্শে অবিচল থাকার অঙ্গীকার
রাজনীতিতে দল বদলের প্রবণতা থাকলেও সাকিব নিজেকে ব্যতিক্রম হিসেবে দাবি করেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আওয়ামী লীগের প্রতিই নিবেদিত কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি বলেন, “সেটাই তো হওয়ার কথা (আওয়ামী লীগে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ), তাই না? আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই, ইচ্ছা নেই এবং কোনো কালেও ছিল না। আমি এই জিনিস কখনও করিনি। ঠিক আছে? আমি যদি একটা ছোট দলেও কোনো দিন নাম লিখিয়েছি তো ওই দলের প্রতি সবসময় অনুগত ছিলাম। পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।”
রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকার
আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাকিবের বিশ্বাস, এই স্থবিরতা চিরস্থায়ী নয়। কোনো দলকে জোর করে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, “এখন নিষিদ্ধ, তাই বলে আজীবন নিষিদ্ধ থাকবে নাকি? আজীবন কি কেউ কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারে! এটা তো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশের একটা বড় অংশকে তো দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। হ্যাঁ, জোর করে কিছুদিন সম্ভব আটকে রাখা বা যতদিন সম্ভব দমিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু এটাতে আসলে দেশের কোনো উন্নতি বা রাজনীতির ভালো আছে বলে আমার মনে হয় না।”
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিহিংসার বৃত্ত ভাঙার ওপর জোর দিয়েছেন সাকিব। অতীতে তার দল যদি বিরোধীদের দমনে ভুল করে থাকে, তবে সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি বর্তমানেও হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এই ধারা বন্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই ভুলটা যদি আমরা করে থাকি, ১০-১৫-২০ বছর আগের রাজনীতির সেই সময়ে দলের ভাবনা তো আমি জানি না, কিন্তু আমরা যদি এরকম ভুল করে থাকি, সেই ভুলেরও তো তাহলে এখন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে! পরে যদি আবার অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসে বা আমরা আসি এবং পুনরাবৃত্তি করি, তাহলে এই খেলা তো চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এগুলো শেষ করতে হবে।”
সাকিব বিশ্বাস করেন, যে দলই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে, তারাই জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারবে। সাকিবের এমন সোজাসাপ্টা বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।