
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা করছে। তবে জ্বালানি ঘাটতির কারণে কিছু এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্ট পাবে—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। তাই শহর-গ্রাম কোনো পার্থক্য রাখা যাবে না।”
তিনি জানান, বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দল যৌথভাবে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা করেছে এবং সমস্যা সমাধানে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে, যা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনায় সহায়তা করবে।
দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দৈনিক গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি আরও জানান, দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় উৎপাদন কমেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেন্দ্রগুলো পূর্ণ উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।