
গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে তীব্র শীত, প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় নতুনভাবে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত তীব্র শীতের কারণে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশু ডেইর আল বালাহর আল আকসা শহীদ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁবুতে মারা যায়। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানান, শীতকালে এখন পর্যন্ত ছয়জন শিশু হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের অতিরিক্ত ঠান্ডায়) প্রাণ হারিয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধের ধ্বংসিত ভবন ধসে পড়ার ফলে আরও চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। গাজা সিটির রেমাল এলাকায় আল শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তা ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, একটি ভবন ধ্বসে তিনজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন ১৫ বছরের কিশোরী মেয়ে। আরেকটি পৃথক ঘটনায় গাজা সিটিতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেছেন, এই ঝড় গাজার জনগণের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ মানুষ পর্যাপ্ত আশ্রয়হীন এবং ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের ফলে প্রয়োজনীয় আশ্রয় সামগ্রী, তাঁবু ও সরঞ্জাম প্রবেশ করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইসরায়েল এই চুক্তি লঙ্ঘন করে মানবিক সহায়তা ও জরুরি সরবরাহ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে, যা শীত ও ঝড়ের মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইউএনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঝড়ে হাজার হাজার তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত বা উড়ে গেছে এবং যুদ্ধ-ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো আরও ভেঙে পড়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং অবিলম্বে আশ্রয় সামগ্রী ও সহায়তা প্রবেশের দাবি জানিয়েছে।