
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার তুমুল সংঘাতের জেরে এবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। বুধবার (১০ জুন) ভোরের দিকে কুয়েতের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা শত্রুপক্ষের একাধিক উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু বা ড্রোন সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এই সফল প্রতিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই সময়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাহরাইনেও আকাশপথে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কুয়েত সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি জরুরি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে দেশের সাধারণ জনগণকে আইনপ্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া সমস্ত সুরক্ষামূলক নির্দেশনাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, যুদ্ধকালীন এই স্পর্শকাতর সময়ে যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে এবং বিভ্রান্তি এড়াতে নাগরিকদের কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এই সামরিক ইন্টারসেপ্ট বা ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা নিয়ে কুয়েত প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।
এদিকে এই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে কুয়েত ও বাহরাইনে একযোগে ড্রোন হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের উপযুক্ত প্রতিশোধ নিতেই তারা কুয়েতের মাটিতে অবস্থিত ‘আলি আল সালেম’ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এর পাশাপাশি বাহরাইনে নোঙর করে রাখা মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী ও কৌশলগত ‘পঞ্চম নৌবহর’ (ফিফথ ফ্লিট)-কে লক্ষ্য করেও পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
দুই দেশের এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ের সূত্রপাত মূলত আজ বুধবার ভোরের আলো ফোটার আগে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান বাহিনী হঠাৎ করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করলে তার জবাবে এই বহুমুখী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালায় ইরান। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সামরিক কমান্ডের দাবি, তারা দক্ষিণ ইরানে তাদের ভাষায় একটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা সফলভাবে পরিচালনা করেছে। দুই মহাশক্তির এই সরাসরি মুখোমুখি সামরিক সংঘাতের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। —সূত্র: আল জাজিরা