
আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে পিল্লাই বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান, মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায় নির্ধারণে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ জোরদার করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, মনোনীতদের নাম সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচনা আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন তালিকার বিকল্প নয়।
এর আগে ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য তাঁর সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।